অধিকার পত্র ডটকম, বিশেষ প্রতিনিধি
ঢাকা, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬: সাত দফা দাবিতে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর অভিমুখে লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির জরুরি প্রস্তুতি সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কর্মসূচির বিস্তারিত জানান জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ।
তিনি জানান, ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে লংমার্চ শুরু হবে। সেখানে উদ্বোধনী সভা চলবে সকাল ৮টা পর্যন্ত। এরপর গাজীপুরের ভোগরাপাড়া, টাঙ্গাইলের নগর জালফৈ, সিরাজগঞ্জ চৌরাস্তা, বগুড়ার চারমাথা এবং গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পাঁচটি পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। পরে রংপুর জিলা স্কুলে সমাপনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ হবে।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, বিরোধী দলের ছয় দফা দাবি এখন সাত দফায় পরিণত হয়েছে। নতুন করে দুর্নীতি, দখলবাজি ও চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি যুক্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, সংসদে ১১ দলীয় ঐক্য জনস্বার্থ ও জনগণের অধিকার নিয়ে কথা বলছে। আইনশৃঙ্খলা, জাতীয় নিরাপত্তা ও মানুষের নিরাপত্তার বিষয়েও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা সোচ্চার রয়েছেন। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন এবং নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও বিরোধী দল ভূমিকা রাখছে বলে দাবি করেন তিনি।
সংবিধান সংস্কার নিয়ে অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় বাস্তবায়নের বিষয়েও বিরোধী দল সংসদে সোচ্চার ছিল বলে জানান জামায়াতের এই নেতা। একই সঙ্গে তেল-গ্যাস সংকট সমাধানে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জ্বালানি সংকট নিরসনে সরকারি ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে একটি টাস্কফোর্স বা কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলেও জানান আযাদ। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কমিটি গঠনের পর বিরোধী দল ১০টি প্রস্তাব দিলেও সরকার সেগুলো আমলে নেয়নি।
সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ক্ষমতায় গেলে দুই বছরের মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হবে না বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হয়নি। গ্যাস সংকটে কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং বস্ত্রশিল্পের অর্ডার পার্শ্ববর্তী দেশে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তার অভিযোগ, বর্তমান সরকার গত ছয় মাসে গ্যাস সংকট সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি। গ্যাসের পাশাপাশি সার সংকটও দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে দেশে খাদ্যসংকট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, একের পর এক ঘটনা ঘটছে, গুম-খুনের ঘটনাও ঘটছে। খুলনার মিরাজ শেখের সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি এবং বিরোধী দলের পাঁচজন নেতা-কর্মী খুন হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় রাজনৈতিক ঐকমত্যের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে আযাদ বলেন, সবাইকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে হবে। তবে বিরোধী দলের দেওয়া প্রস্তাবগুলো সরকার যথাযথভাবে বিবেচনা করছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: