odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Sunday, 27th September 2026, ২৭th September ২০২৬
থ্রি-আর কৌশল, রোহিঙ্গা সংকট, বিশ্বশান্তি ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের বার্তা তুলে ধরায় প্রশংসা

জাতিসংঘে তারেক রহমানের ভাষণের প্রশংসা সুশীল সমাজ ও সাধারণ মানুষের

odhikarpatra | প্রকাশিত: ২৬ September ২০২৬ ২৩:৫৯

odhikarpatra
প্রকাশিত: ২৬ September ২০২৬ ২৩:৫৯

জাতিসংঘ অধিবেশনে ভাষন দিচ্ছেন 

নিজস্ব প্রতিবেদক, অধিকার পত্র ডটকম, নিউইয়র্কে :

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া প্রথম ভাষণ সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে। ভাষণে বাংলাদেশ পুনর্গঠন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, বিশ্বশান্তি, রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, জনগণের ক্ষমতায়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

২৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বাংলায় দেওয়া ভাষণে বাংলাদেশ পুনর্গঠনে সরকারের ‘থ্রি-আর’ কৌশল—রিকভারি, রেস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন—উপস্থাপন করেন তিনি। এর পাশাপাশি সংঘাত নিরসনে সংলাপ, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।

জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে দেশ পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠনের একটি কাঠামো তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর মতে, থ্রি-আর কৌশল বাস্তবায়নে অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ প্রয়োজন হবে।

তিনি আরও বলেন, মূল্যস্ফীতি ও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের মতো চ্যালেঞ্জের মধ্যে উন্নয়ন কার্যক্রমে অর্থায়নের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের বোঝা এবং ঋণের অর্থ উৎপাদনশীল খাতে ব্যবহারের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মাহবুব উল্লাহর মতে, ব্যাংকিং খাতের সংস্কারও অর্থনীতি পুনরুজ্জীবনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় শুধু বিদেশি সহায়তার ওপর নির্ভরতার কথা না বলে দেশের নিজস্ব সক্ষমতা, দায়িত্বশীলতা ও উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

রোহিঙ্গা সংকটেও গুরুত্ব

প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে রোহিঙ্গা সংকট বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. মো. নুরুল আমিন বেপারী বলেন, রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের সৃষ্টি নয়। তাই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় মিয়ানমারকে মূল ভূমিকা পালন করতে হবে। চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘের সম্পৃক্ততার কারণে বিষয়টি এখন বৃহত্তর আন্তর্জাতিক উদ্বেগে পরিণত হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, জাতিসংঘের মঞ্চে রোহিঙ্গা ইস্যু তুলে ধরে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। তিনি প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে থ্রি-আর কৌশলের পাশাপাশি যুদ্ধ ও সামরিক সংঘাতের পরিবর্তে সংলাপ, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিশ্বশান্তি ও ফিলিস্তিন প্রসঙ্গ

‘প্রতিদিনের বাংলাদেশ’ পত্রিকার সম্পাদক মারুফ কামাল খান প্রধানমন্ত্রীর ভাষণকে বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ, সংঘাত ও সহিংসতার সময়ে শান্তির আকাঙ্ক্ষার প্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করার বিষয়টি তুলে ধরেন। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তির জন্য ফিলিস্তিন সংকটের একটি স্থায়ী সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ, জলবায়ু পরিবর্তন, নারী শিক্ষা ও ক্ষমতায়ন, শিশু স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল ব্যবহারের বিষয়গুলোও গুরুত্ব পায়।

বাংলায় ভাষণ দেওয়ার বিষয়টি প্রশংসিত

প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ বলেন, প্রায় ১৭ মিনিটের বাংলাভাষণের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বশান্তি, আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং শক্তিশালী বহুপক্ষীয় সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, পরিবেশগত সমস্যা এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র সংস্কারের মতো বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরা হয়েছে।

বাসসের প্রতিবেদনে উদ্ধৃত জনমতের অংশে ঢাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছ থেকেও প্রধানমন্ত্রীর বাংলায় ভাষণ দেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তামজিদ বলেন, ভাষণে তাঁর প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন রয়েছে। রাজধানীর নীলক্ষেতের দোকানি মোহাম্মদ শাহীন বলেন, সাধারণ বাংলাদেশিদের উদ্বেগের বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরার বিষয়টি তাঁর ভালো লেগেছে।

পথচারী মোহাম্মদ জসিমও বাংলাদেশের মর্যাদা, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও রোহিঙ্গা সংকটের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন।

বিনিয়োগ ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে সংলাপ

সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। জাতিসংঘে দেওয়া বক্তব্যে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে সংলাপ অব্যাহত রাখার কথাও তিনি বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেকোনো সমস্যার সমাধান সংলাপ, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই হওয়া উচিত।

এর আগে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, সমান সুযোগ, গণতন্ত্র, মানবাধিকার, সুশাসন ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের ওপর গুরুত্ব দেন।

জাতিসংঘ সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক ত্যাগ করেন। বাসস জানিয়েছে, এমিরেটসের একটি ফ্লাইটে তিনি দুবাই হয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।