odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Friday, 2nd October 2026, ২nd October ২০২৬
AJI শিল্পপার্ক বিক্রির দাবি প্রকাশ্যে, তবে পুরো পার্ক বিক্রির বিষয়ে অনন্ত জলিলের সরাসরি নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি; এর আগে গার্মেন্ট ব্যবসা থেকে সরে আসার কথা জানিয়েছিলেন তিনি।

গার্মেন্ট শিল্পপার্ক বিক্রি করছেন অনন্ত জলিল? যাচাইয়ে যা জানা গেল

odhikarpatra | প্রকাশিত: ১ October ২০২৬ ২৩:৪৪

odhikarpatra
প্রকাশিত: ১ October ২০২৬ ২৩:৪৪

অধিকারপত্র ডটকম, 

নিজস্ব প্রতিবেদক

চিত্রনায়ক, প্রযোজক ও ব্যবসায়ী অনন্ত জলিলের গার্মেন্ট ব্যবসা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সাভারের হেমায়েতপুরে অবস্থিত তার মালিকানাধীন AJI শিল্পপার্ক বিক্রি করে দেওয়ার জন্য ক্রেতা খোঁজা হচ্ছে—এমন দাবি ১ অক্টোবর প্রকাশিত কয়েকটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

তবে তথ্য যাচাই করে দেখা যায়, পুরো AJI শিল্পপার্ক বিক্রি করে দেওয়ার বিষয়ে অনন্ত জলিলের নিজের সরাসরি কোনো নিশ্চিত বক্তব্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ফলে এটিকে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত হিসেবে না দেখে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত দাবি হিসেবে উপস্থাপন করাই যুক্তিযুক্ত।

এর আগে কী বলেছিলেন অনন্ত জলিল?

২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে প্রকাশিত প্রতিবেদনে অনন্ত জলিলের গার্মেন্ট ব্যবসা থেকে ধীরে ধীরে সরে আসার খবর প্রকাশিত হয়। সেখানে বলা হয়, তার শিল্পগ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান এবি ফ্যাশন চীনা একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়েছে এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও ভাড়া দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছিল।

অর্থাৎ, তখনকার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী তিনি সরাসরি সব প্রতিষ্ঠান বিক্রি করে দেওয়ার কথা না বলে ব্যবসা পরিচালনার ধরন পরিবর্তন এবং গার্মেন্ট খাত থেকে ধীরে ধীরে সরে আসার পথে ছিলেন।

শিল্পপার্কে কর্মীসংখ্যা কমার দাবি

১ অক্টোবর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, একসময় AJI শিল্পপার্কে প্রায় ১৩ হাজার কর্মকর্তা ও শ্রমিক কাজ করলেও বর্তমানে সেখানে প্রায় ১ হাজারের মতো কর্মী রয়েছেন। একই প্রতিবেদনে শিল্পপার্কটি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার দাবি করা হয়েছে এবং ক্রেতা খোঁজার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এসব সংখ্যা ও পুরো শিল্পপার্ক বিক্রির বিষয়টি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করার মতো অনন্ত জলিলের সরাসরি বক্তব্য বা সরকারি নথি এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তাই সংখ্যাগুলোকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে না লিখে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনের দাবি হিসেবে উল্লেখ করা প্রয়োজন।

ব্যবসায় মন্দার কথা আগেও জানিয়েছিলেন

এর আগে অনন্ত জলিল তার ব্যবসায়িক পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন। ২০২০ সালের এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, তার প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় প্রতি মাসে বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হয় এবং তখন তার প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১১ হাজার শ্রমিক কাজ করছিলেন।

২০২৬ সালের এপ্রিলের প্রতিবেদনে তার ব্যবসা থেকে সরে আসার সিদ্ধান্তের পেছনে দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক মন্দার কথা উল্লেখ করা হয়।

শ্রমিকদের বকেয়া নিয়েও সংকট

AJI Group-এর ব্যবসায়িক পরিস্থিতি নিয়ে ২০২৬ সালে শ্রমিক অসন্তোষের খবরও এসেছে। একটি প্রতিবেদনে সাভারে AJI Group-এর শ্রমিকদের বকেয়া পাওনার দাবিতে সড়ক অবরোধ এবং উৎপাদন বন্ধের কথা জানানো হয়। পরে মালিকপক্ষের প্রতিনিধিদের আশ্বাসের পর শ্রমিকরা সড়ক ছেড়ে দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এসব ঘটনা থেকে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক ও শ্রমিকসংক্রান্ত চাপের বিষয়টি বোঝা গেলেও, শুধু এসব তথ্যের ভিত্তিতে অনন্ত জলিল দেউলিয়া হয়েছেন বা পুরো শিল্পপার্ক বিক্রি হয়ে গেছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।

তাহলে কি সত্যিই বিক্রি হচ্ছে AJI শিল্পপার্ক?

বর্তমান যাচাইয়ে বলা যায়, AJI শিল্পপার্ক বিক্রির জন্য ক্রেতা খোঁজা হচ্ছে—এমন দাবি প্রকাশিত হয়েছে। একই সঙ্গে অনন্ত জলিলের গার্মেন্ট ব্যবসা থেকে ধীরে ধীরে সরে আসা এবং একটি প্রতিষ্ঠান চীনা কোম্পানির কাছে ভাড়া দেওয়ার তথ্যও পাওয়া যাচ্ছে।

কিন্তু পুরো শিল্পপার্ক বিক্রির চূড়ান্ত চুক্তি হয়েছে কিংবা বিক্রি সম্পন্ন হয়েছে—এমন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই এই মুহূর্তে “অনন্ত জলিল শিল্পপার্ক বিক্রি করে দিয়েছেন” বলা তথ্যগতভাবে অতিরঞ্জিত হবে।

বরং যাচাই করা তথ্যের ভিত্তিতে বলা যায়, অনন্ত জলিলের গার্মেন্ট ব্যবসা সংকটের মধ্যে রয়েছে এবং তিনি এই খাত থেকে ধীরে ধীরে সরে আসার উদ্যোগ নিয়েছেন—এমন তথ্য প্রকাশিত হয়েছে; শিল্পপার্ক বিক্রির বিষয়টি এখনো দাবির পর্যায়ে রয়েছে।

 

১৩ হাজার শ্রমিকের সেই গার্মেন্ট শিল্পপার্ক! অনন্ত জলিল কি সত্যিই বিক্রি করে দিচ্ছেন?

#অনন্তজলিল #AJIGroup #গার্মেন্টশিল্প #গার্মেন্টব্যবসা #শিল্পপার্ক #সাভার #হেমায়েতপুর #ব্যবসা #অধিকারপত্র