odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Sunday, 25th October 2026, ২৫th October ২০২৬
অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরনে সামরিক অভিযান ও অবরোধের মধ্যে ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর দখল করে ব্যারাক ও পর্যবেক্ষণ চৌকি স্থাপন করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ২৯৩টি পরিবারের প্রায় ২ হাজার ২০০ মানুষ।

হেবরনে ফিলিস্তিনিদের বাড়ি সামরিক চৌকিতে পরিণত করছে ইসরায়েল, বাস্তুচ্যুত ২ হাজার ২০০ মানুষ

odhikarpatra | প্রকাশিত: ২৫ October ২০২৬ ১৭:২২

odhikarpatra
প্রকাশিত: ২৫ October ২০২৬ ১৭:২২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, অধিকারপত্র ডটকম 

অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরন শহরে সামরিক অভিযান জোরদার করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। অভিযানের অংশ হিসেবে ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর থেকে জোরপূর্বক সরিয়ে নিয়ে সেসব বাড়িকে সামরিক ব্যারাক ও পর্যবেক্ষণ চৌকি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে শহরজুড়ে অবরোধ, অভিযান, গ্রেপ্তার ও চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফার বরাতে জানা গেছে, হেবরনের দক্ষিণাঞ্চলের খাল্লাত মান্না ও দাহিয়াত আল-জাইতুন এলাকায় ফিলিস্তিনিদের বাড়ি দখল করে সামরিক ব্যারাক স্থাপন করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। অন্য কয়েকটি এলাকার বাড়ি থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে সেগুলো পর্যবেক্ষণ চৌকি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) হেবরনে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর একটি রিজার্ভ ঘাঁটিতে দুই ফিলিস্তিনি সশস্ত্র ব্যক্তির হামলার পর পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে। ওই ঘটনায় দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হন। পরে হামলায় জড়িত সন্দেহভাজন দুই ফিলিস্তিনিও নিহত হন।

এরপর হেবরনে অবরোধ আরোপ করে ইসরায়েলি বাহিনী। শহরটির বিভিন্ন এলাকায় শত শত অভিযান চালানো হয়। পাশাপাশি বাড়িঘর ছেড়ে যেতে বাধ্য করা হয় শত শত ফিলিস্তিনি পরিবারকে।

 বাস্তুচ্যুত ২ হাজার ২০০ ফিলিস্তিনি

ফিলিস্তিনি প্রিজনার্স সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার থেকে হেবরনজুড়ে অন্তত ৪৭ জন ফিলিস্তিনিকে আটক করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। একই সময়ে ২৯৩টি পরিবারকে জোরপূর্বক বাড়িঘর থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এসব পরিবারের সদস্যসংখ্যা প্রায় ২ হাজার ২০০।

বাস্তুচ্যুতদের মধ্যে রয়েছে ১২৭টি শিশু, ৮১ জন অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং ২৬ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি। এ ছাড়া রয়েছেন দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ১৩৪ জন এবং ৬০ বছরের বেশি বয়সী ২৬৫ জন প্রবীণ।

সংগঠনটির দাবি, অভিযানের সময় ফিলিস্তিনিদের ব্যাপকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। অনেককে আটক ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে তারা।

 ফিলিস্তিনি জমিতে নতুন বসতি স্থাপনের উদ্যোগ

হেবরনের দক্ষিণে ইয়াত্তা শহরের ফিলিস্তিনিদের মালিকানাধীন জমিতে নতুন করে দুটি বসতি স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা।

ওয়াফার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়াত্তার পশ্চিমে খাল্লাত আল-ফারা এলাকায় বসতি স্থাপনের জন্য তাঁবু খাটানো হয়েছে। সেখানে বুলডোজার ও খননযন্ত্র নিয়ে জমি সমতল করার কাজও শুরু হয়েছে।

অন্যদিকে, ইয়াত্তার মরুভূমি এলাকায় আজ-জুওয়েইদিন ও উম্মে কুসসা গ্রামের মধ্যবর্তী ফিলিস্তিনি মালিকানাধীন জমিতে আরও একটি নতুন বসতি স্থাপনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সেখানে তাঁবু স্থাপনের পাশাপাশি পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগের অবকাঠামো তৈরির কাজ চলছে বলে জানা গেছে।

 বেথলেহেমেও সড়ক অবরোধ

এদিকে অধিকৃত পশ্চিম তীরের বেথলেহেম অঞ্চলেও টানা তৃতীয় দিনের মতো বিভিন্ন সড়ক ও প্রবেশপথ বন্ধ রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে একাধিক শহর ও গ্রামের বাসিন্দাদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

শনিবার তুকু শহরের দিকে যাওয়ার কয়েকটি মাটির রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিকল্প পথ দিয়ে চলাচলকারী ফিলিস্তিনি যানবাহনের দিকে কাঁদানে গ্যাস ও শব্দবোমা নিক্ষেপের অভিযোগও উঠেছে।

হেবরনে সাম্প্রতিক অভিযান, বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদ এবং নতুন বসতি স্থাপনের উদ্যোগ এমন এক সময়ে চলছে, যখন ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচন সামনে। আগামী ২৭ অক্টোবর দেশটিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের তৎপরতা ঘিরে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে জলপাই সংগ্রহকারী ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলার ঘটনাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

সূত্র: আল জাজিরা, ওয়াফা ও ফিলিস্তিনি প্রিজনার্স সোসাইটি।