odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Thursday, 29th October 2026, ২৯th October ২০২৬
ইসরায়েলের নির্বাচনে সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ও সামরিক নেতৃত্বের অবস্থান—নতুন সংঘাতের সম্ভাবনা ঘিরে বাড়ছে কূটনৈতিক হিসাব-নিকাশ।

৩ নভেম্বরের পর ইরানে হামলার পথে কি বাধা কমছে? নেতানিয়াহু–ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের দিকে নজর

odhikarpatra | প্রকাশিত: ২৯ October ২০২৬ ০২:৩৪

odhikarpatra
প্রকাশিত: ২৯ October ২০২৬ ০২:৩৪

অধিকারপত্র ডটকম | আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি 

ইসরায়েলের নির্বাচনের পর রাজনৈতিক অচলাবস্থা দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জন্য ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযান শুরুর ক্ষেত্রে সময় ও সুযোগের হিসাব বদলে দিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে নতুন হামলার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আপত্তি ছিল বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম *দ্য জেরুজালেম পোস্ট*।

২৮ অক্টোবর প্রকাশিত বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় সামরিক অভিযান শুরুর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছিলেন। তবে ট্রাম্প ও ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আইয়াল জামিরের বিরোধিতার কারণে সে সময় হামলা শুরু হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

 পরও সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা

ইসরায়েলের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট প্রত্যাশার চেয়ে ভালো অবস্থান করলেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ফলে বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোটের সঙ্গে সমঝোতা, আরব দলগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা কিংবা নতুন নির্বাচনের সম্ভাবনা সামনে এসেছে।

প্রতিবেদনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সরকার গঠনের আলোচনা দীর্ঘায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নতুন সরকার গঠনের মাধ্যমে নেতানিয়াহুর সামরিক সিদ্ধান্তের ওপর রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা কঠিন হতে পারে।

ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত কেন গুরুত্বপূর্ণ?

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে নতুন হামলা চালাতে অনাগ্রহী ছিলেন ট্রাম্প। তবে নির্বাচনের পর তাঁর অবস্থান বদলালে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা বাড়তে পারে।

অন্যদিকে, ট্রাম্পের উপদেষ্টাদের একটি বড় অংশ নতুন করে যুদ্ধে ফেরার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। ইরান পাল্টা হামলা চালালে সংঘাত কয়েক দিনের মধ্যে শেষ না হয়ে দীর্ঘায়িত হতে পারে—এমন আশঙ্কাও রয়েছে।

সামরিক নেতৃত্বের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ

জেরুজালেম পোস্টের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আইডিএফ প্রধান আইয়াল জামির ইরানে হামলার বিষয়ে শর্তসাপেক্ষ অবস্থান নিয়েছেন। ইরানের পক্ষ থেকে আসন্ন হামলার আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ সামরিক সমর্থন অথবা সুপরিকল্পিত কৌশলগত উদ্দেশ্যকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা হিসেবে দেখছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

একই সঙ্গে, ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও সেগুলো নতুন করে তাৎক্ষণিক হামলার পর্যায়ে পৌঁছেছে—এমন মূল্যায়ন জামিরের নেই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

হামলা কি তাহলে আসন্ন?

এখনই নতুন হামলা নিশ্চিত বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমঝোতা, সামরিক প্রস্তুতি এবং পাল্টা আক্রমণের ঝুঁকি—সবকিছুই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে।

জেরুজালেম পোস্টের বিশ্লেষণের মূল বক্তব্য হলো, ইসরায়েলের নির্বাচনের পর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা নতুন সামরিক অভিযানের পথ পুরোপুরি বন্ধ করে রাখছে না। তবে হামলা হলে তার পক্ষে যুক্তি, কৌশলগত লক্ষ্য এবং ইসরায়েলি জনমতের সমর্থন নিশ্চিত করা নেতানিয়াহুর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।

**সূত্র:** The Jerusalem Post, ২৮ অক্টোবর ২০২৬; Israel Hayom, ২৮ অক্টোবর ২০২৬।