অধিকারপত্র ডটকম, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬/
নিজস্ব প্রতিবেদক :
বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে রাঙামাটি জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র ও ‘মেঘের রাজ্য’ খ্যাত সাজেক ভ্যালি পর্যন্ত বর্ণাঢ্য রোড শো ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পর্যটন শিল্পের বিকাশ, পরিবেশ সংরক্ষণ ও পর্যটকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘কটেজ অ্যান্ড রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব সাজেক’-এর উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার দীপু।
জেলা পরিষদের সদস্য ও কটেজ অ্যান্ড রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব সাজেকের সভাপতি সুপর্ন দেব বর্মনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাঘাইহাট সেনা জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেকুল ইমরান পিএসসি, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ, জেলা পরিষদের সদস্য শ্বাশত চাকমাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা।
বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে রাঙামাটি জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে সাজেক ভ্যালি পর্যন্ত আয়োজিত হয় বর্ণাঢ্য রোড শো। পাশাপাশি সাজেকের পর্যটন এলাকাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পাহাড়ে সবুজায়ন বাড়াতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও আয়োজনের অংশ ছিল।
এদিকে পার্বত্য অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর ঐতিহ্যবাহী কৃষ্টি ও সংস্কৃতি তুলে ধরতে আয়োজন করা হয় বিশেষ সাংস্কৃতিক ও খাদ্য প্রদর্শনী। স্থানীয় লুসাই, ত্রিপুরা ও চাকমা জনগোষ্ঠীর যৌথ উদ্যোগে বসানো হয় ‘ট্রেডিশনাল ফুড কোর্ট’।
এই ফুড কোর্টে আগত পর্যটক ও অতিথিদের জন্য পাহাড়ি অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী এবং বিলুপ্তপ্রায় বিভিন্ন ধরনের খাবারের আয়োজন রাখা হয়। এর মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলের স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য পর্যটকদের সামনে তুলে ধরা হয়।
সাজেক কটেজ অ্যান্ড রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃস্থানীয় প্রতিনিধিরা জানান, পর্যটন দিবসকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের বরণ করে নেওয়ার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ও টেকসই পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে তোলাই তাদের মূল লক্ষ্য।
তারা বলেন, সাজেকের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার সঙ্গে পর্যটনকে সমন্বয় করে এগিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে রোববার সাজেকজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। পাহাড়ি রোদ ও মেঘের মনোরম খেলায় পর্যটনকেন্দ্রটি হয়ে ওঠে আরও আকর্ষণীয়। পর্যটক ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতে সাজেকের বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্টি হয় আনন্দঘন পরিবেশ।
