odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Wednesday, 28th October 2026, ২৮th October ২০২৬
হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া ও উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর বিরুদ্ধে হুমকি বন্ধের আহ্বান দোহার। যুক্তরাষ্ট্র ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত।

মধ্যস্থতা সফল করতে ইরানকে সদিচ্ছার প্রমাণ দিতে হবে: কাতার

odhikarpatra | প্রকাশিত: ২৭ October ২০২৬ ২৩:৪৪

odhikarpatra
প্রকাশিত: ২৭ October ২০২৬ ২৩:৪৪

অধিকার পত্র ডটকম | আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা সফল করতে তেহরানকে সদিচ্ছার প্রমাণ দিতে হবে বলে জানিয়েছে কাতার। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর বিরুদ্ধে হুমকি বন্ধ করতে ইরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র এ অবস্থানের কথা জানান। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে চলতি সপ্তাহের শুরুতে কাতারের একটি প্রতিনিধিদল ইরান সফর করে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করেও মধ্যস্থতার চেষ্টা চালাচ্ছে দোহা।

কাতারের বক্তব্য অনুযায়ী, মধ্যস্থতার উদ্যোগ এগিয়ে নিতে ইরানকে বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমে সদিচ্ছা দেখাতে হবে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে চলাচল স্বাভাবিক করা এবং উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলোর বিরুদ্ধে হুমকি বন্ধ করাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে দেশটি।

 আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক তৎপরতা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনের পাশাপাশি সংঘাতের বিস্তার ঠেকাতে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ কূটনৈতিক উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছে। কাতারের পাশাপাশি পাকিস্তানও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টায় যুক্ত রয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও তেহরানে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। আঞ্চলিক সংঘাত কমানোর প্রচেষ্টার মধ্যেই ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর নতুন হামলার খবর পাওয়া গেছে। এদিকে সৌদি আরবকে প্রতিরক্ষা সহায়তা দেওয়ার বিষয়েও মিসর অনুমোদন দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 নতুন হামলার আশঙ্কায় উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার ইরানের বিরুদ্ধে আবারও হামলা চালানোর সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন বলে রয়টার্স জানিয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল নতুন করে হামলা চালালে উপসাগরীয় অঞ্চলের সমুদ্রতলের যোগাযোগ কেব্‌ল লক্ষ্য করে হামলার বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরি করেছে তেহরান।

তবে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়েছে—এমন তথ্য প্রতিবেদনে নেই। নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরু হলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন এবং জ্বালানি সরবরাহের ওপর আরও চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। এ পথে চলাচল ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক তেল ও গ্যাস সরবরাহে প্রভাব পড়তে পারে। ফলে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা প্রশমনে কাতারসহ আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক পর্যায়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।