অধিকার পত্র ডটকম | আন্তর্জাতিক
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার মধ্যে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয় বৈঠকে বসেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) গ্যাস রপ্তানিকারক দেশগুলোর ফোরামের অষ্টম শীর্ষ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে এ কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। আল জাজিরার লাইভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের আগে কাতারের আমির ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন।
মধ্যস্থতায় কাতারের ভূমিকার প্রশংসা পুতিনের
কাতারের আমিরের সঙ্গে বৈঠকের পর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, বিভিন্ন দেশের মধ্যে বিরোধ নিরসনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাতারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলে।
পুতিন আরও বলেন, রাশিয়া ও কাতারের মধ্যে বাণিজ্যিক বিনিময় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে দুই দেশের কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। মধ্যপ্রাচ্যের জটিল পরিস্থিতি সমাধানে রাশিয়া তার সামর্থ্য অনুযায়ী সবকিছু করতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা নিয়ে উদ্বেগ
কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি বলেছেন, গত ১০ বছরে রাশিয়া ও কাতারের সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনার কারণে অঞ্চলটি কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
গাজায় চলমান মানবিক বিপর্যয় নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন কাতারের আমির। তাঁর বক্তব্যে আঞ্চলিক সংঘাতের পাশাপাশি মানবিক সংকটের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
কাতার এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে মধ্যস্থতার উদ্যোগে যুক্ত ছিল। মস্কোর এই বৈঠক আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে রাশিয়া, কাতার ও ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্ব।
হরমুজ প্রণালির কাছে ট্যাংকারে আগুনের খবর
এদিকে ইরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির পূর্বদিকে মাইনে আঘাত করার পর একটি তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন ধরে যায়। তবে সরবরাহ করা প্রতিবেদনের অংশে জাহাজটির পরিচয়, হতাহতের সংখ্যা, মাইনের উৎস কিংবা ঘটনার পূর্ণ বিবরণ পাওয়া যায়নি।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালির আশপাশে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহ ও নৌপরিবহনে প্রভাব পড়তে পারে। ফলে এ অঞ্চলের সামরিক উত্তেজনা কমানো নিয়ে কূটনৈতিক আলোচনার গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
মস্কোর বৈঠকে সংঘাত নিরসনে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে বা নতুন কোনো সমঝোতা হয়েছে কি না, তা আল জাজিরার সরবরাহ করা আপডেটে স্পষ্ট নয়।
